“ মোরা যাত্রী একই তরণীর ” উদ্ধৃত বাণীটি  আমাদের মহান মুর্শীদে বরহক হয্‌রতুল আল্লামা খাজা শাহ্‌ আলহাজ্ব কাজী মো. সিরাজ উদ্দিন চিশতী (রা.) এর পবিত্র জবান মোবারক নিঃসৃত একটি অমর বাণী। আপনারা নিশ্চয়ি অবগত আছেন যে, মুর্শীদ পাক উনার জীবদ্দশায় ঢাকা ও এর আশেপাশের ভক্ত-মুরিদানগণের জন্য ঢাকা মহানগরীর ডেমরা থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মাতুয়াইল নামক স্থানে “ খানকায়ে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়া ” নামক  একটি খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ভক্ত-মুরিদানগণের উদ্দেশ্যে তৈরীকৃত হ্যান্ডবিল বা লিফলেটে  তিনি উক্ত অমীয় বাণীটি ব্যবহার  করেন। মুর্শীদে বরহকের  পবিত্র জবান মোবারক নিঃসৃত উক্ত অমীয় বাণীটির  অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যপক। মুর্শীদে বরহক কর্তৃক প্রদত্ত এই মহামূল্যবান বাণীটি আকড়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে অর্থাৎ সকল ভক্ত-মুরীদানগণকে সুসংগঠিত করে একটি একক প্লাটফরমে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে গত ০৯/০৩/২০১৮ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার  চাপিতলা চিশ্‌তীয়া নেজামিয়া দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত    “ আঞ্জুমানে চিশ্‌তিয়া কমিটির ” এক সাধারণ সভায় একটি সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সংগঠনটির নাম হিসেবে  ঢাকা ও এর আশেপাশের ভক্ত-মুরিদানগণের জন্য হুজুরপাক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “খানকায়ে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়া”  নামটির অনুকরণে “ আশেকানে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়া ”  নামটি নির্বাচন করা হয়েছে। একইভাবে  “ খানকায়ে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়া ”  প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ভক্ত-মুরিদানগণের উদ্দেশ্যে তৈরীকৃত হ্যান্ডবিল বা লিফলেটে  ব্যবহৃত “ মোরা যাত্রী একই তরণীর ” স্লোগানটিকে ও “ আশেকানে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়ার ”  স্লোগান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। “ মোরা যাত্রী একই তরণীর ”– উক্ত বাণীটির মাধ্যমে মুর্শীদ কেবলা আমাদের বুঝাতে চেয়েছেন যে, “ চিশতিয়ায়ে সেরাজিয়া ” হচ্ছে একটি তরণী বা নৌকা । এই তরণী বা নৌকার মাঝি বা নাবিক হচ্ছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় মহান মুর্শীদ কেবলা আর আমরা প্রতিটি ভক্ত-মুরিদান হচ্ছি উক্ত তরণী বা নৌকার যাত্রী । সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ মুর্শিদ কেবলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “ খানকায়ে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়া ”  নামটির অনুকরণে গঠিত  “ আশেকানে চিশ্‌তীয়ায়ে সেরাজিয়া ” নামক সংগঠনটির সদস্য হয়ে মুর্শীদরূপী নাবিকের সহযাত্রী হয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জনের সুযোগ তথা আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন ও রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করা।